Header Ads

নদীর ভাঙনের কারণে আমাদের মূল পানিশ্বর গ্রাম প্রায় শেষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মেঘনা নদীর ২০ ঘণ্টার ভাঙনে ৬টি চাতাল মিল বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হয়ে গেছে নদীর তীরবর্তী স্থানে বসবাসকারী পাল পরিবারের ৪টি বসতঘর। তারা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। উপজেলার পানিশ্বর গ্রামে গত শনিবার বিকাল থেকে এ ভাঙন শুরু হয়েছে। বিরামহীন ভাঙনে চাতাল মিলের আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। মিল মালিকরা বলছে ইতিমধ্যে তাদের ১০-১২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে গেছে। নিঃস্ব হয়ে গেছেন ২/১ জন। গতকাল সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও সরাইল উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় ভুক্তভোগী লোকজন জানায়, আষাঢ় মাসের শুরু থেকেই বিরামহীন বৃষ্টির কারণে মেঘানার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে ঢেউ। গত শনিবার বিকাল ৩টা থেকে পানিশ্বর ইউনিয়নের শাখাইতি গ্রামের চাতাল মিল গুলো নদী গর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। কিছুই করার নেই মালিকদের। চোখের সামনে নদী গিলছে আর মালিকরা চেয়ে চেয়ে দেখছেন। কেউ কেউ চোখের জল ছাড়ছেন। একেবারেই নিরুপায়। প্রকৃতির এ বৈরী আচরণের প্রতিবাদ করার ক্ষমতা কারো নেই। দেখতে দেখতে মো. জিল্লু মিয়ার পলাশ রাইস মিল, আল-হাবিব রাইস মিল-১ ও আল-হাবিব রাইস মিল-২ নিমিষে বিলীন হয়ে গেল নদীতে। কিছুই নেই জিল্লু মিয়ার। সে এখন নিঃস্ব। শুধু জিল্লু মিয়াই কমপক্ষে ৫ কোটি টাকার ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। এ ছাড়া দারু মিয়ার খাজা রাইস মিল, নুরু মিয়ার হাজী রাইস মিল ও মজিবুর রহমানের রূপচাহি রাইস মিলের ও অধিকাংশ জায়গা নদী গর্ভে চলে গেছে। এ ছাড়া দরিদ্র পাল বাড়ির সুনিল সূত্রধর, হরিদাস সূত্রধর, শঙ্কর সূত্রধর ও দুলাল সূত্রধরের বসতঘর নদী গিলে ফেলেছে। তারা এখন অন্যের বাড়িতে বসবাস করছে। বন্ধ হয়ে গেছে তাদের মাটি দিয়ে হাঁড়ি পাতিল কলস সহ নানা জিনিসপত্র তৈরির কাজ। গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্প এখন একেবারেই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। চাতাল মিল মালিক জিল্লু মিয়া ও হাজী নুরু মিয়া বলেন, আমাদের সব শেষ। শত শত শ্রমিকও বেকার হয়ে গেল। পথে বসা ছাড়া উপায় নেই। নদী হঠাৎ করে এ ভাবে সব নিয়ে যাবে ভাবিনি। সরকারের সহায়তা ছাড়া আর আমাদের দাঁড়াবার উপায় নেই। পানিশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান মো. দীন ইসলাম বলেন, নদীর ভাঙনের কারণে আমাদের মূল পানিশ্বর গ্রাম প্রায় শেষ। সবশেষ পাল পাড়াটাও নিয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর ভাঙনের কারণে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নিতে পারলে আমাদের দুর্ভোগ শেষ হবে না। এ বিষয়ে জানতে সরাইল উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের মুঠোফোনে (০১৭০৫-৪১১২৪৩) গতকাল বিকাল ৫টা ৬মিনিটে ফোন দিলে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মনজুর হোসেন চৌধুরী ৬টি চাতাল মিল ও পাল পরিবারের ঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, একেবারে নদীতে খাড়া ভাবে বালু ফেলে ভরাট করে মিল তৈরী করায় নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে এ ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। আমি এক বছর আগে এখানে যোগদান করেছি। আগের ভাঙন সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে মিল মালিকরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাতাল মিল একটা শিল্প। এ শিল্পকে ধ্বংস হতে দেয়া যাবে না। আমি নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়কে নিয়ে আবারও ওই জায়গা পরিদর্শন করব। প্রতিবেদন তৈরি করব। সেখানে স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার সকল চেষ্টা করব।

No comments